আবরার ‘মাগো’ বলে চিৎকার করে অনিকের পা ধরে কেঁদে কেঁদে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ছাত্র আবরার ফাহাদের উপর যে নির্মম নি’র্যাতন চালানো হয়েছে তার বর্ণনা উঠেছে এসেছে আসামিদের জবানবন্দীতে।

গ্রে’প্তারের পর এই হঃত্যাকা’ণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সমাজ সেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন।

শুক্রবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে জবানবন্দি দেয় জিয়ন। তার আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে জবানবন্দি দেয় ছাত্রলীগ নেতা ইফতি মোশাররফ সকাল।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হ’ত্যাকা’ণ্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা দিয়েছে ইফতি ও জিয়ন। ইফতির কক্ষেই সেসহ অন্যরা ৬ই অক্টোবর রাতে পিটিয়ে হ’ত্যা করে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে।

আদালতে দেয়া জবানবন্দি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার দিকে আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রুমে যাওয়া মাত্রই আবরারকে অকথ্য ভাষায় গা’লি দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবরার তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলো। ছাত্রলীগ নেতাদের ধারণা ছিলো আবরার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চেক করা হয়। এতে শিবির সংশ্লিষ্ট কিছু না পেলেও আবরারের কাছে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল জানতে চায়, ক্যাম্পাসে কারা, কারা শিবির করে? এসময় আবরারকে কয়েকটি চড় মারে মেহেদি। সেইসঙ্গে ওই রুমে থাকা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাদের নির্দেশ দেয় আবরারকে পি’টিয়ে তথ্য জানতে হবে। ওই নির্দেশ দিয়ে মেহেদি রুম থেকে বের হয়। এসময় তার সঙ্গে ছিলো বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন।
ওই নির্দেশের পরেই শুরু হয় বেদম মার। প্রথমে চড় ও লাথি। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা সামসুল আরেফিন রাফাত স্ট্যাম্প এনে দেয় ইফতির হাতে। স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে আবরারের কাছে ইফতি জানতে চান, ক্যাম্পাসে শিবির করে কারা, কারা? আবরার জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তারপর দুহাত টান টান করে স্ট্যাম্প দিয়ে আ’ঘাত করেন আবরারকে। আবরার ‘মাগো মাগো’ বলে চি’ৎকার করেন। এভাবে কয়েকবার মা’রার পর স্ট্যাম্পটি ভেঙ্গে যায়।

পরে অন্য স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে পি’টাতে থাকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অনিক সরকার। ইফতির বর্ণনা অনুসারে আবরারের হাঁটু, পা, পায়ের তালু ও বাহুতে আ’ঘাত করছিলো অনিক সরকার। পায়ের তালুতে আ’ঘাত করলে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চি’ৎকার করে আবরার। এসময় অংশ নেয় ছাত্রলীগের আরেক নেতা মেফতাহুল। একই কায়দায় সেও পে’টায় আবরারকে। এভাবে মা’র চলছিলো রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এরমধ্যেই রাতের খাবার খেতে ক্যান্টিনে যায় ইফতি।

খাবার খেয়ে ফিরে এসে দেখতে পায় আবরার মেঝেতে পড়ে আছে। এসময় ধ’মক দিয়ে তাকে উঠে দাঁড় করিয়ে পি’টাতে থাকে ইফতি। মোটা দড়ি দিয়ে আবরারকে এই দফায় পি’টাতে থাকে মুজাহিদুর রহমান। তারপর আবার ইফতি। তারপর তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, রবিন।
প্রায় একটানা এক ঘন্টা পিটিয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার। রাত ১১টার দিকে আবার ওই কক্ষে যায় অনিক। এসময় অনিক স্টাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এলোপাতাড়ি শতাধিক আ’ঘাত করে আবরারকে।

আবরার তখন পা ধরেছিলো বারবার। মা’রবেন না, মা’রবেন না বলে অনুনয় করেছিলো। অনিক খুবই অনিয়ন্ত্রিতভাবে আবরারকে মা’রতে থাকে। রাত ১২টা পর্যন্ত আবরারকে মা’রতে থাকে সে। মা’রতে মা’রতে ঘেমে যায়। আবরারের কথা তখন অস্পষ্ট। কথা বলার শক্তি নেই প্রায়। অনিক তখন বের হয়ে যায়।

জবানবন্দিতে ইফতি জানিয়েছে, তখন আবরার অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছিলো। ওই সময়ে আবরার ব’মি করেন। পরপর দুবার ব’মি করেন। ভয় পেয়ে যায় ইফতি। ফোনে এ বিষয়ে কথা বলে অনিকের সঙ্গে। অনিক পরামর্শ দেয় আবরারের শরীরে মলম লাগিয়ে দিতে।

পরে ২০০৫ নম্বর কক্ষে বিছানায় রাখা হয় আবরারকে। এসময় ম্যাসেজ পাঠায় বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। অমিত সাহা সবকিছু জানার পরে নির্দেশ দেন তাকে আরও মা’রতে হবে। মেরে তথ্য বের করতে হবে। কিছুক্ষণ পর বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ও অনিক ২০০৫ নম্বর কক্ষে যায়। মেহেদি তখন বলে, ‘কিচ্ছু হয়নি। ও নাটক করতেছে’।

ওই সময়ে আবার ব’মি করেন আবরার। মেহেদী তখন আবরারকে পুলিশের হাতে দেয়ার জন্য নিচে নামাতে বলে। তোশকসহ আবরারকে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়িতে নামিয়ে রাখা হয়। ওই সময়ে আবরার অস্পষ্টভাবে কয়েকবার তাদের বলেছিলো, ভাইগো, ভাই শরীরটা খুব খারাপ লাগছে। সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল

English

The statement of the brutal negligence that has been carried out on the student of Bangladesh Engineering University (BUET), Abrar Fahad, has come out in the statement of the accused.

Bufat Branch Chhatra League’s Deputy Minister of Social Services Ifti Mosharraf morning and sports secretary of BUET Branch Chhatra League Meftahul Islam Zion described the tragic incident after Gray’s arrest.

Ziyon was granted a statement in Dhaka Metropolitan Magistrate Sarafuzzaman Ansari’s court on Friday. Earlier on Thursday, Chhatra League leader Ifti Mosharraf made a statement in Dhaka Metropolitan Magistrate Khandaker Yasir Ahsan Chowdhury’s court.

In the confessional statement given by the court, Ifti and Zion describe the beginning and end of the murder. On the night of October 8, he and others were beaten to death in the Iftar room by a second-year student of Electronics and Electrical Engineering, Abrar Fahad.

According to court-related statements and inquiries, Abar was called to Room 28 around 8pm. He was taken away with his laptop and mobile phone. On the way to the room, the leader of the BCL activists lashed out at Abar in a vague language. Abrar was standing with his head down. Chhatra League leaders were of the view that the camp of Abrar was involved with politics.

His mobile phone and laptop were checked. But the general secretary of BUET Chhatra League Mehdi Hassan Russell wants to know who is on campus, who camps? In the meantime, Mehdi hit a couple of sticks. At the same time, other leaders of the Chhatra League in the room instructed Abner to find out the information. With that instruction, Mehdi gets out of the room. He was accompanied by BUET Branch Chhatra League’s sports secretary Meftahul Islam Zion.

After that instruction, the beating began. First climb and kick. At one point, Chhatra League leader Samsul Arefin brought the raft stamp to Ifti’s hand. If you want to know if you want to take a stamp, if you camp on campus, who? Abrar said he knew nothing about it. Then both hands pulled Abram with a stamp. Abrar shouted ‘Mango Mango’. This is how the stamp is broken after several times.

Later, with another stamp, Abar was taken to P ‘BUET branch by BCL information and research secretary Anik Sarkar. Anik Sarkar was hitting Abarr’s knees, legs, feet and arms as described by Ifti. Abara shouted ‘Save the save’ when you hit him in the foot. Another Chhatra League leader Meftahul participated in the meeting. He is also in the same position as Payara. Thus, the mother was going till 5:30 pm. In the meantime Ifti goes to the canteen to eat dinner.

After eating the food, he sees Abar lying on the floor. In the meantime, Ifti raised him with a shock, and ifti had continued. Muzhidur Rahman is on the pitch with a thick rope. Then ifti again. Then Tabakkharul Islam Tanvir, Robin.
Anik Sarkar, the information and research secretary of BUET BCL, was beaten for almost an hour. Anik goes to the room again around 9 pm. During this time, Anikar stabbed more than a hundred and fifty with the highest strength.

Ibarra was holding his feet again and again. Mother did not ask, Mother did not request. Anika is very uncontrollable and keeps her mother in check. Until 12pm, she kept abreast of her mother. Mother goes to sweat for mother. Abrar’s words are unclear. Almost no power to speak. Anik then gets out.

In the statement, iftirah reported, Abrar fell ill. He was breathing frequently. At that time I did abra. Twice in a row. Ifti gets scared. On the phone talk to Anik. Anik suggests placing ointment on Abrar’s body.

Abrar was later laid on the bed in room # 21. During this time, Amit Saha, the deputy on the legal affairs of the BUET Chhatra League sent a message. Amit Saha, after knowing everything, ordered that he should be given more. I have to find out the information. After some time, the general secretary of BUET BCL Mehedi and Anik went to room no. Mehdi then says, ‘Nothing happened. He is doing drama. ‘

At that time again I made B’Amar. Mehdi then told Abar to come down to hand him over to the police. Abrar, including Toshk, was taken down the stairs and down the stairs. At that time Abrar had vaguely told them several times, “Virgo, brother, the body looks very bad.” General Secretary Mehdi Hasan Russell

Author: somaiya

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *